মনপুরায় আনসার ভিডিপির জমিতে ছাত্রলীগ সভাপতির ভবন

মনপুরা উপজেলা সদরে আনসার ভিডিপির মহাপরিচালকের নামে রেকর্ডীয় ও অফিসের জন্য নির্ধারিত কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সামসুদ্দিন সাগারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

শনিবার সামসুদ্দিন সাগরকে মনপুরা থানার ওসি ও জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট ডেকে পাঠালেও দুপুর পর্যন্ত তিনি হাজির হননি। তবে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন বলে জানান ওসি শাহীন খান।

সামসুদ্দিন সাগর অবশ্য দাবি করেন তিনি একটি ডোবা লিজ নিয়েছেন। তাতেই বাড়ি করছেন।

এদিকে আনসার ভিডিপির মহাপরিচালকের নামে ১৯৯০ সালের ২৯ মে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিসেই দলিল করা হয়েছিল ওই জমির। জেলা ও উপজেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য লিখিতভাবে পুলিশের সাহায্য চেয়েছেন।

আনসার ভিডিপির অতিরিক্ত মহাপরিচালক যুগান্তরকে জানান, ওই জমি দখল করে যিনি ভবন নির্মাণ করছেন, তাকে তলব করা হয়েছে। কাজ বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে।

অপরদিকে আনসার ভিডিপি বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আবদুল হাই ইউএনও, থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ তুলে ধরে কাজ বন্ধ করার আবেদন করেন। মনপুরা থানার ওসি শাহীন খান জানান, অভিযোগ পেয়ে তারা ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পান।

অভিযুক্ত সামসুদ্দিনকে তার সপক্ষের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত সামসুদ্দিন আসেননি। এমনকি সামসুদ্দিন কোনো বাধাই মানছেন না বলে জানান আনসার ভিডিপি বহুমুখী সমবায় সমিতির সদস্যরা।

এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সামসুদ্দিন সাগর শনিবার যুগান্তরকে জানান, মনপুরা আনসার ভিডিপির অনেক জায়গা রয়েছে। তারা কিছু ঘর ভাড়াও দেন। দুই বছর আগে তিনি একটি ডোবা তাদের কাছ থেকে লিজ নিয়েছেন। ওই ডোবা ভরাট করেই এখন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। নির্মাণের পর ওই ভবন তিনি আবাসিক হিসেবে ভাড়া দেবেন বলেও জানান।

ডোবা লিজ নিয়ে তাতে স্থায়ী পাকা ভবন করার আইন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি পাকা ভবন করলেও ছাদ দিতেন না। লিজই তার বৈধ কাগজ বলে দাবি করেন।

তবে সমিতির নেতারা জানান, ১৯৯০ সালের ২৯ মে মো. নুরুল ইসলাম ফরাজি ৮ শতক জমি আনসার ভিডিপির মহাপরিচালক বরাবর দান করেন। ওই জমিতে একটি ঘরও নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে ঘূর্ণিঝড়ে তা বিধ্বস্ত হলে আর কোনো ঘর তোলা হয়নি। সামসুদ্দিনকে কেউ কোনো জমি লিজও দেননি। বালু ভরাট করার সময়ও তাকে বাধা দেয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া আনসার বিভাগের জমির পাশের প্রাণিসম্পদ বিভাগেরও কয়েকশতক জমিও দখল করেছে সমাসুদ্দিন। ওই বিভাগ থেকেও তাকে দখল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। তবে এলাকার মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। সামসুদ্দিন সাগর ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকে তার নৈরাজ্য শুরু হয় বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

About Avi Sharma

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Translate »